২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, জিএম বরখাস্ত

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল আসার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই ভৌতিক বিলটি ইস্যু করা হয়।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। কিন্তু এই ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ বিলের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ আজ ২৯ সেপ্টেম্বর। এতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, ‌‘এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে আমাদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার চাই।’

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, জিএম বরখাস্ত

Update Time : ০৩:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল আসার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই ভৌতিক বিলটি ইস্যু করা হয়।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। কিন্তু এই ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ বিলের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ আজ ২৯ সেপ্টেম্বর। এতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, ‌‘এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে আমাদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার চাই।’