পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাহিরা আক্তার (নাম) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মধ্য চিংগুরিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহিরা আক্তার ভাণ্ডারিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মো. আলমগীর হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে চাকরি শেষে অবসর নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহিরার বয়স যখন তিন বছর, তখন তার মা মারা যান। পরে তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে মাহিরা সৎ মায়ের সঙ্গে একই সংসারে বসবাস করছিল।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সৎ মায়ের সংসারে মাহিরা নানা ধরনের অবহেলা ও মানসিক চাপে ছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মাহিরার সৎ মা সুমাইয়া আক্তারের দাবি, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে খাবার খেয়ে মাহিরা নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায়। মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে তাকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হলে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানান।
সুমাইয়া আরও দাবি করেন, সৌদিপ্রবাসী রিয়াজ বেপারী নামে এক তরুণের সঙ্গে মাহিরার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই মাস আগে ওই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই মাহিরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলে তিনি জানান। তবে এ বক্তব্যও পুলিশের তদন্তে যাচাই করা হবে।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীর মরদেহ দেখতে পায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
ওসি জানান, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
মোঃ জুলহাস হোসেন 



















