মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা। চলতি ২০২৬ সালে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের নদ-নদী ও সংশ্লিষ্ট জলসীমায় ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে ইলিশ মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হবে।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ে। এ সময় মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হলে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়। ফলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এই নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে জেলেদের নদীতে না যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ও আড়তগুলোতে ইলিশের কেনাবেচা বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত বা বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জীবিকার ওপর নির্ভরশীল প্রকৃত ও নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকার ভিজিএফ সহায়তা প্রদান করছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জেলেদের তালিকা অনুযায়ী এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের নদীতে না যাওয়ার জন্য সচেতন করা হচ্ছে।
মা ইলিশ রক্ষার এই কর্মসূচি সফল করতে শুধু প্রশাসন নয়, জেলে, ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ জনগণ—সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন ইলিশ না কিনে এবং না খেয়ে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
মোঃ রাহাত শিকদার 



















