২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতার বার্তা, কাকরধা অশ্বিনী কুমার মেমোরিয়ালে বিতর্ক প্রতিযোগিতা

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাকরধা অশ্বিনী কুমার মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউশনে প্রাণবন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অসচেতনতাই বাল্যবিবাহের মূল কারণ’ শীর্ষক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যুক্তিতর্কের লড়াইয়ে বিপক্ষ দল বিজয়ী হয়েছে।

কাকরধা অশ্বিনী কুমার মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউশন ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে আজ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। কন্যা শিশুদের অধিকার, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক এবং এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।

বিতর্কে প্রস্তাবনার পক্ষে থাকা দল যুক্তি তুলে ধরে বলে, পরিবার ও সমাজে শিক্ষার অভাব, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সচেতনতার ঘাটতিই বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ।

অন্যদিকে, বিপক্ষ দল তাদের বক্তব্যে দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ, প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিংয়ের দুর্বলতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে। যুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বক্তব্যের সাবলীলতার ভিত্তিতে বিচারকমণ্ডলী বিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ কাইয়ুম খান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সাবিহা খান বনানী, মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও কমল কৃষ্ণ সমাদ্দার। তাঁরা প্রতিযোগীদের যুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, বক্তব্য উপস্থাপন ও বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কন্যা শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে তারা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও বিজিত উভয় দলের শিক্ষার্থীদের হাতে স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতার বার্তা, কাকরধা অশ্বিনী কুমার মেমোরিয়ালে বিতর্ক প্রতিযোগিতা

Update Time : ০৮:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাকরধা অশ্বিনী কুমার মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউশনে প্রাণবন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অসচেতনতাই বাল্যবিবাহের মূল কারণ’ শীর্ষক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যুক্তিতর্কের লড়াইয়ে বিপক্ষ দল বিজয়ী হয়েছে।

কাকরধা অশ্বিনী কুমার মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউশন ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে আজ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। কন্যা শিশুদের অধিকার, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক এবং এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।

বিতর্কে প্রস্তাবনার পক্ষে থাকা দল যুক্তি তুলে ধরে বলে, পরিবার ও সমাজে শিক্ষার অভাব, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সচেতনতার ঘাটতিই বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ।

অন্যদিকে, বিপক্ষ দল তাদের বক্তব্যে দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ, প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিংয়ের দুর্বলতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে। যুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বক্তব্যের সাবলীলতার ভিত্তিতে বিচারকমণ্ডলী বিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ কাইয়ুম খান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সাবিহা খান বনানী, মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও কমল কৃষ্ণ সমাদ্দার। তাঁরা প্রতিযোগীদের যুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, বক্তব্য উপস্থাপন ও বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কন্যা শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে তারা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও বিজিত উভয় দলের শিক্ষার্থীদের হাতে স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।