২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিবাহিত নারীকে নিয়ে বাকেরগঞ্জের দাড়িয়ালে ইমামের সাত মাস বসবাস, অতঃপর?

বাকেরগঞ্জে এক বিবাহিত নারীকে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।নতুন ভাষা শিখুন

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদের পাশের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হলে আসলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদারের মেয়ে সাদিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সাদিয়া বর্তমানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।

সাদিয়ার বড় ভাই ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করার সময় তুহিন ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মৃত কাউসারের বিবাহিত মেয়ে মিম আক্তারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মিম স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে মিম আক্তারের সঙ্গে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কামরুল হাসান আকাশের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে মিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং বাংলাবাজার জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, মিম আক্তারের সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা- সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

বিবাহিত নারীকে নিয়ে বাকেরগঞ্জের দাড়িয়ালে ইমামের সাত মাস বসবাস, অতঃপর?

Update Time : ১০:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বাকেরগঞ্জে এক বিবাহিত নারীকে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।নতুন ভাষা শিখুন

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদের পাশের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হলে আসলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদারের মেয়ে সাদিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সাদিয়া বর্তমানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।

সাদিয়ার বড় ভাই ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করার সময় তুহিন ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মৃত কাউসারের বিবাহিত মেয়ে মিম আক্তারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মিম স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে মিম আক্তারের সঙ্গে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কামরুল হাসান আকাশের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে মিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং বাংলাবাজার জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, মিম আক্তারের সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা- সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।