বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নতুন করে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। তীব্র শিক্ষক সংকট দূরীকরণ এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগসহ ৫ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন (সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ) করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও চলমান পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক আন্দোলনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। এই সংকট নিরসন না করে নতুন করে প্রাথমিক শাখা চালু করা হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দেন, তারা এই প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির কার্যক্রম বহাল চান। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ তোলেন।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৫ দফা দাবিগুলো হলো:
১. প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করা।
২. বর্তমান শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসন করা।
৩. শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ও অন্যায্য অর্থ আদায় বন্ধ করা।
৪. শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৫. প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা দূর করা।
আন্দোলন চলাকালীন ক্যাম্পাসে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সকাল থেকেই প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে কঠোর শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হবে।
কে এম ফায়জুল ইসলাম রাজু 



















