২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইশরাকের অভিযান চালানো সেই স্পটে যৌথ অভিযান, আটক ১৫ জনের কারাদণ্ড

রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং-সংলগ্ন গুমটিঘর এলাকার আলোচিত মাদক স্পটে যৌথ অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে ৫টা পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবির যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক সেবন ও কেনাবেচার জন্য তৈরি অস্থায়ী কাগজের ছাউনি ও ঝুপড়িগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই রেললাইন-সংলগ্ন গুমটিঘর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছিল। বিকেলে ছদ্মবেশে থাকা এসআরবি-৩ ও ডিএনসির সদস্যরা অভিযান শুরু করলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের অনেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ১৫ জনকে আটক করা হয়।

ডিএনসির ঢাকা উত্তরের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই ভাসমান। একবার অভিযান চালানো হলে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার আসে। পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না। জায়গাটিতে নিয়মিত কাউকে রাখতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে।’

অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মোহাম্মদ তাওশিফ শরিফ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আটক ১৫ জনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) একই মাদক স্পটে ব্যক্তিগত ও সহযোগীদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে আলোচনায় আসেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ওই সময় তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় সরকার ও তার নিজ দল বিএনপির মধ্যেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।

সমালোচনার মুখে রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পরদিন সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের কথা জানান ইশরাক হোসেন।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

ইশরাকের অভিযান চালানো সেই স্পটে যৌথ অভিযান, আটক ১৫ জনের কারাদণ্ড

Update Time : ১০:৪১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং-সংলগ্ন গুমটিঘর এলাকার আলোচিত মাদক স্পটে যৌথ অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে ৫টা পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবির যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক সেবন ও কেনাবেচার জন্য তৈরি অস্থায়ী কাগজের ছাউনি ও ঝুপড়িগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই রেললাইন-সংলগ্ন গুমটিঘর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছিল। বিকেলে ছদ্মবেশে থাকা এসআরবি-৩ ও ডিএনসির সদস্যরা অভিযান শুরু করলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের অনেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ১৫ জনকে আটক করা হয়।

ডিএনসির ঢাকা উত্তরের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই ভাসমান। একবার অভিযান চালানো হলে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার আসে। পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না। জায়গাটিতে নিয়মিত কাউকে রাখতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে।’

অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মোহাম্মদ তাওশিফ শরিফ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আটক ১৫ জনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) একই মাদক স্পটে ব্যক্তিগত ও সহযোগীদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে আলোচনায় আসেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ওই সময় তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় সরকার ও তার নিজ দল বিএনপির মধ্যেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।

সমালোচনার মুখে রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পরদিন সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের কথা জানান ইশরাক হোসেন।