২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে ৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিক

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক ৫৮ সন্তানের ভরণপোষণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। চার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তার বিশাল পরিবারের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দারিদ্র্যের কারণে পরিবারের কিছু শিশুকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) খামা প্রেস এজেন্সি’র এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

তার বড় পরিবারকে লালন-পালনের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে মোহাম্মদ সাদিক জানান, নিজের সব সন্তানের নাম মনে রাখাও তার জন্য কঠিন। কখনও কখনও পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাবার খাওয়ার সময় তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন। তখন দেখা যায়, একজন নেই, কারণ সে অন্য কোথাও অবস্থান করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর সাদিক ও তার স্ত্রীরা ১৪ সন্তানকেও হারিয়েছেন।

জানা যায়, একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন সাদিক। তিনি জানান, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় ১ হাজার আফগানি আয় করেন। এই আয় দিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। পরিবারের খরচ চালাতে তার কয়েকজন সন্তানও কাজ করে। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।

পরিবারটিতে সাধারণত দিনে দুই বেলা—সকালের নাশতা ও রাতের খাবার—তৈরি করা হয়। দুই স্ত্রী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। আর গ্রীষ্মকালে তারা উঠানে জড়ো হন। ঘুমানোর ব্যবস্থাও বেশ অপ্রতুল। কখনো কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে ঘুমাতে হয়।

প্রতিবেদনে বাড়িটির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে- যেখানে ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালা নেই। দরজার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের জায়গাটিই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং কখনও কখনও শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান সাদিক। তবে শিক্ষার খরচ বহন করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তার বড় পরিবার গড়ার উদ্দেশ্য ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা উল্লেখ করে সাদিক বলেন, এত বেশি সন্তান থাকার বাস্তব সমস্যার কথাও তিনি তুলে ধরেন। একবার বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে ভুল করে এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেছিলেন তিনি।

প্রায়ই তিনি সন্তানদের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন সাদিক বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

প্রথম বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ২০ বছর উল্লেখ করে সাদিক জানান, প্রতিটি বিয়ের আগে কনের বিয়ের মূল্য বা দেনমোহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে তাকে সময় নিয়ে সঞ্চয় করতে হয়েছিল।

সাদিক জানান, তিনি পড়তে বা লিখতে পারেন না।

নিজের পরিবারের ভরণপোষণে সহায়তার জন্য সরকার, ত্রাণ সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তার প্রধান দুটি আশা—সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং পরিবারের সবার জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনা বাল্যবিবাহ এবং অল্প বয়সে ও বারবার গর্ভধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কৈশোরে বিয়ে ও গর্ভধারণ করা মেয়েরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অপরদিকে, বারবার গর্ভধারণ মায়েদের স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে ৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিক

Update Time : ০৪:২১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক ৫৮ সন্তানের ভরণপোষণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। চার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তার বিশাল পরিবারের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দারিদ্র্যের কারণে পরিবারের কিছু শিশুকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) খামা প্রেস এজেন্সি’র এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

তার বড় পরিবারকে লালন-পালনের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে মোহাম্মদ সাদিক জানান, নিজের সব সন্তানের নাম মনে রাখাও তার জন্য কঠিন। কখনও কখনও পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাবার খাওয়ার সময় তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন। তখন দেখা যায়, একজন নেই, কারণ সে অন্য কোথাও অবস্থান করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর সাদিক ও তার স্ত্রীরা ১৪ সন্তানকেও হারিয়েছেন।

জানা যায়, একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন সাদিক। তিনি জানান, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় ১ হাজার আফগানি আয় করেন। এই আয় দিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। পরিবারের খরচ চালাতে তার কয়েকজন সন্তানও কাজ করে। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।

পরিবারটিতে সাধারণত দিনে দুই বেলা—সকালের নাশতা ও রাতের খাবার—তৈরি করা হয়। দুই স্ত্রী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। আর গ্রীষ্মকালে তারা উঠানে জড়ো হন। ঘুমানোর ব্যবস্থাও বেশ অপ্রতুল। কখনো কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে ঘুমাতে হয়।

প্রতিবেদনে বাড়িটির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে- যেখানে ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালা নেই। দরজার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের জায়গাটিই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং কখনও কখনও শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান সাদিক। তবে শিক্ষার খরচ বহন করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তার বড় পরিবার গড়ার উদ্দেশ্য ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা উল্লেখ করে সাদিক বলেন, এত বেশি সন্তান থাকার বাস্তব সমস্যার কথাও তিনি তুলে ধরেন। একবার বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে ভুল করে এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেছিলেন তিনি।

প্রায়ই তিনি সন্তানদের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন সাদিক বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

প্রথম বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ২০ বছর উল্লেখ করে সাদিক জানান, প্রতিটি বিয়ের আগে কনের বিয়ের মূল্য বা দেনমোহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে তাকে সময় নিয়ে সঞ্চয় করতে হয়েছিল।

সাদিক জানান, তিনি পড়তে বা লিখতে পারেন না।

নিজের পরিবারের ভরণপোষণে সহায়তার জন্য সরকার, ত্রাণ সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তার প্রধান দুটি আশা—সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং পরিবারের সবার জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনা বাল্যবিবাহ এবং অল্প বয়সে ও বারবার গর্ভধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কৈশোরে বিয়ে ও গর্ভধারণ করা মেয়েরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অপরদিকে, বারবার গর্ভধারণ মায়েদের স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।