০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার আরও চার আসনে প্রার্থী দিল বিএনপি, ফাঁকা রইল তিনটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৩টিতে আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। যে সাত আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল, এবার এর চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। তবে ঢাকার তিনটি আসনে এখনো বিএনপির প্রার্থী নেই।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও ৩৬টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে গত ৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি।

প্রথম দফায় ঢাকার লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর (আংশিক) ও কোতোয়ালি (আংশিক) এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭; সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মুগদা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯; ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০; মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর (আংশিক) নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩; ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও গুলশান-বনানী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭; বৃহত্তর উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ এবং ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-২০ সংসদীয় আসন ফাঁকা রেখেছিল বিএনপি।

আজ ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০ ও ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এরপর বিএনপি ফাঁকা রাখল ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-২০ আসন। এর মধ্যে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এবং ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে বিএনপি সমর্থন দিচ্ছে। তাঁরা দুজন ইতিমধ্যে বিএনপির ‘সবুজসংকেত’ পেয়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছেন।

ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী চারজন। তাঁরা হলেন ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তমিজ উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা জেলা সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস (মুরাদ), জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান (অভি)। কিন্তু এই আসনে এখনো বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।

ঢাকার চার আসনে যাঁদের নিয়ে আলোচনা ছিল

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান। আসনটি বিএনপি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে ছেড়ে দিতে পারে বলে আলোচনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হয়নি। মামুনুল হকের দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আট দলের অভিন্ন কর্মসূচির আন্দোলনে সক্রিয় আছে।

ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ। এ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী। মির্জা আব্বাসকে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এবার বিএনপির এক পরিবার থেকে একজনকে প্রার্থী করার ‘নীতির’ কারণে আফরোজা আব্বাস বাদ পড়তে পারেন বলে আলোচনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাও ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এ আসন যখন বিএনপি ফাঁকা রেখেছিল, তখন এ আলোচনা সামনে এসেছিল যে তাঁর জন্যই বিএনপি আসনটি ফাঁকা রেখেছে কি না।

ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম। এ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে উপদেষ্টার পদ ছেড়ে এ আসনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন, এমন আলোচনাও ছিল। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই আলোচনার অবসান হলো।

বৃহত্তর উত্তরার ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে। গত মাসের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এ আসনে দলটির প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিএনপি এ আসনে প্রার্থী করেনি।

এক পরিবার থেকে দুই প্রার্থী

এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এক পরিবার থেকে একজনকে প্রার্থী করার ‘নীতি’ নিলেও একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এ নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দফায় টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। এবার দ্বিতীয় দফায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর উপজেলা) আসনে দলটির প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন তাঁর ছোট ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন এখন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।

 

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সংগঠনকে ত্বরান্বিত করতে ৮ নং নলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকার আরও চার আসনে প্রার্থী দিল বিএনপি, ফাঁকা রইল তিনটি

Update Time : ০৯:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৩টিতে আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। যে সাত আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল, এবার এর চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। তবে ঢাকার তিনটি আসনে এখনো বিএনপির প্রার্থী নেই।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও ৩৬টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে গত ৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি।

প্রথম দফায় ঢাকার লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর (আংশিক) ও কোতোয়ালি (আংশিক) এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭; সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মুগদা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯; ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০; মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর (আংশিক) নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩; ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও গুলশান-বনানী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭; বৃহত্তর উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ এবং ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-২০ সংসদীয় আসন ফাঁকা রেখেছিল বিএনপি।

আজ ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০ ও ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এরপর বিএনপি ফাঁকা রাখল ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-২০ আসন। এর মধ্যে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এবং ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে বিএনপি সমর্থন দিচ্ছে। তাঁরা দুজন ইতিমধ্যে বিএনপির ‘সবুজসংকেত’ পেয়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছেন।

ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী চারজন। তাঁরা হলেন ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তমিজ উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা জেলা সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস (মুরাদ), জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান (অভি)। কিন্তু এই আসনে এখনো বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।

ঢাকার চার আসনে যাঁদের নিয়ে আলোচনা ছিল

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান। আসনটি বিএনপি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে ছেড়ে দিতে পারে বলে আলোচনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হয়নি। মামুনুল হকের দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আট দলের অভিন্ন কর্মসূচির আন্দোলনে সক্রিয় আছে।

ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ। এ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী। মির্জা আব্বাসকে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এবার বিএনপির এক পরিবার থেকে একজনকে প্রার্থী করার ‘নীতির’ কারণে আফরোজা আব্বাস বাদ পড়তে পারেন বলে আলোচনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাও ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এ আসন যখন বিএনপি ফাঁকা রেখেছিল, তখন এ আলোচনা সামনে এসেছিল যে তাঁর জন্যই বিএনপি আসনটি ফাঁকা রেখেছে কি না।

ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম। এ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে উপদেষ্টার পদ ছেড়ে এ আসনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন, এমন আলোচনাও ছিল। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই আলোচনার অবসান হলো।

বৃহত্তর উত্তরার ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে। গত মাসের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এ আসনে দলটির প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিএনপি এ আসনে প্রার্থী করেনি।

এক পরিবার থেকে দুই প্রার্থী

এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এক পরিবার থেকে একজনকে প্রার্থী করার ‘নীতি’ নিলেও একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এ নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দফায় টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। এবার দ্বিতীয় দফায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর উপজেলা) আসনে দলটির প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন তাঁর ছোট ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন এখন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।