১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয়ী বিএনপিকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। বিএনপি ও তার সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের জন্য এই নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চয়ই ভীষণ আনন্দের ব্যাপার। তবে বাস্তবতা হলো বিএনপির আসল চ্যালেঞ্জের শুরুও আসলে এখান থেকে। বিএনপির সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছিল। তার পরের ইতিহাস সবার জানা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল দলটি।

তৎকালীন প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় চলে আসবে ভেবে আওয়ামী লীগের সমর্থক শুভানুধ্যায়ীরা পরবর্তী সময়গুলোতে আওয়ামী লীগের কার্যকর সমালোচনা থেকে বিরত থেকেছিলেন। উন্নয়নের নামে স্বৈরশাসনে সমর্থন জুগিয়েছিলেন।

এর খেসারত শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সারা দেশের মানুষকে দিতে হয়েছে। বিএনপি ও তার সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।

ব্যাপারটা মুখে বলা যত সহজ, বাস্তবায়ন করা তত কঠিন। শুধু ‘সেলফ রেগুলেশন’ বা আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকানো যায় না। এর জন্য কাঠামোগতভাবে নির্বাহী ক্ষমতায় ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা ভারসাম্য তৈরি করতে হয়।

জুলাই সনদের মাধ্যমে ঠিক এই কাজই করার চেষ্টা করা হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করায় বিএনপির দায়িত্ব হবে জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা।

মুশকিল হলো, জুলাই সনদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাঠামোগত সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে রেখেছে। আনুপাতিক উচ্চকক্ষ ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতির সংস্কার যার উদাহরণ।

জুলাই সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও উচ্চকক্ষের নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল—সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে; কিন্তু বিএনপি ভোটের অনুপাতের বদলে নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে। নির্বাচনী ইশতেহারেও বিএনপি এ কথা লিখে রেখেছে।

কিন্তু জুলাই সনদ অনুসারে উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের কোনো ক্ষমতা থাকবে না, নিম্নকক্ষ প্রণীত কোনো আইন স্থায়ীভাবে আটকাতেও পারবে না। তবে উচ্চকক্ষ যে কাজটি পারবে, তা হলো সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংসদে এক দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য হ্রাস।

Tag :
About Author Information

Mohon

মায়াবী চিত্রা হরিণটির পা চেপে ধরেছেন একজন, অন্যজন কোপাচ্ছেন দা দিয়ে

বিজয়ী বিএনপিকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে

Update Time : ০৯:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। বিএনপি ও তার সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের জন্য এই নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চয়ই ভীষণ আনন্দের ব্যাপার। তবে বাস্তবতা হলো বিএনপির আসল চ্যালেঞ্জের শুরুও আসলে এখান থেকে। বিএনপির সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছিল। তার পরের ইতিহাস সবার জানা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল দলটি।

তৎকালীন প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় চলে আসবে ভেবে আওয়ামী লীগের সমর্থক শুভানুধ্যায়ীরা পরবর্তী সময়গুলোতে আওয়ামী লীগের কার্যকর সমালোচনা থেকে বিরত থেকেছিলেন। উন্নয়নের নামে স্বৈরশাসনে সমর্থন জুগিয়েছিলেন।

এর খেসারত শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সারা দেশের মানুষকে দিতে হয়েছে। বিএনপি ও তার সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।

ব্যাপারটা মুখে বলা যত সহজ, বাস্তবায়ন করা তত কঠিন। শুধু ‘সেলফ রেগুলেশন’ বা আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকানো যায় না। এর জন্য কাঠামোগতভাবে নির্বাহী ক্ষমতায় ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা ভারসাম্য তৈরি করতে হয়।

জুলাই সনদের মাধ্যমে ঠিক এই কাজই করার চেষ্টা করা হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করায় বিএনপির দায়িত্ব হবে জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা।

মুশকিল হলো, জুলাই সনদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাঠামোগত সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে রেখেছে। আনুপাতিক উচ্চকক্ষ ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতির সংস্কার যার উদাহরণ।

জুলাই সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও উচ্চকক্ষের নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল—সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে; কিন্তু বিএনপি ভোটের অনুপাতের বদলে নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে। নির্বাচনী ইশতেহারেও বিএনপি এ কথা লিখে রেখেছে।

কিন্তু জুলাই সনদ অনুসারে উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের কোনো ক্ষমতা থাকবে না, নিম্নকক্ষ প্রণীত কোনো আইন স্থায়ীভাবে আটকাতেও পারবে না। তবে উচ্চকক্ষ যে কাজটি পারবে, তা হলো সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংসদে এক দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য হ্রাস।