১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট: এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়

বিপদটা কি আমরা সত্যিই অনুধাবন করছি?

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয়দাতা। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে, যা বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ। কিন্তু এর পাশাপাশি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের প্রশ্নও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এদিকে প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে লাখ লাখ ভোটারকে ভোটদানের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। আসামেও বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক বিশ্লেষক।

আজ সীমান্তে অল্পসংখ্যক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা দেখা গেলেও, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই বিষয়টিকে কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা জরুরি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে সরকার, বিরোধী দল এবং দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বিভক্তি নয়, প্রয়োজন ঐক্য; সংঘাত নয়, প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী কৌশল ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি।

আমরা মানবিক হবো, কিন্তু দুর্বল নয়।আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়।আমরা শান্তি চাই, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে নয়।

বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। এই দেশের স্বাধীনতা, সীমান্ত ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের। আজকের দূরদর্শী সিদ্ধান্তই আগামী প্রজন্মের নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের রোগীদের জন্য ৬ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ

জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট: এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়

Update Time : ১০:১৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিপদটা কি আমরা সত্যিই অনুধাবন করছি?

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয়দাতা। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে, যা বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ। কিন্তু এর পাশাপাশি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের প্রশ্নও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এদিকে প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে লাখ লাখ ভোটারকে ভোটদানের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। আসামেও বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক বিশ্লেষক।

আজ সীমান্তে অল্পসংখ্যক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা দেখা গেলেও, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই বিষয়টিকে কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা জরুরি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে সরকার, বিরোধী দল এবং দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বিভক্তি নয়, প্রয়োজন ঐক্য; সংঘাত নয়, প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী কৌশল ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি।

আমরা মানবিক হবো, কিন্তু দুর্বল নয়।আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়।আমরা শান্তি চাই, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে নয়।

বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। এই দেশের স্বাধীনতা, সীমান্ত ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের। আজকের দূরদর্শী সিদ্ধান্তই আগামী প্রজন্মের নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে।