বাকেরগঞ্জ উপজেলা-এর ১৭১ নম্বর দক্ষিণ ভরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নামমাত্র সরকারি বিদ্যালয় হলেও বাস্তবে সেখানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৪ জন। এর মধ্যে পঞ্চম, চতুর্থ, দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণিতে একজন করে শিক্ষার্থী রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই নেই। ফলে পুরো বিদ্যালয়ে কার্যত পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।
বিদ্যালয়টিতে কাগজে-কলমে ৫ জন শিক্ষিকা কর্মরত থাকলেও উপস্থিত পাওয়া গেছে মাত্র ২ জনকে। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে শিক্ষিকাদের মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদি হতাশা বিরাজ করছে। পাঠদানের মতো পরিবেশ না থাকায় অনেক সময়ই তাদের অলস বসে থাকতে দেখা যায়।
অবকাঠামোগত দিক থেকেও বিদ্যালয়টির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নেই কোনো মানসম্মত ভবন; জরাজীর্ণ পরিবেশে ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত ভবন ও পরিবেশের অভাবেই অভিভাবকরা সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইসরাত জাহান ডলি-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সহকারী শিক্ষিকা ফাতিমা বেগম ও সুমি আক্তার সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত টিফিন—ডিম, কলা ও রুটি—নিয়মিতভাবে প্রধান শিক্ষিকা নিজ বাসায় নিয়ে যান। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আরেক সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন্নাহার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের বাকি শিক্ষিকাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ চিত্রে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেন একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা এত কম এবং কেন বছরের পর বছর অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ অবস্থায় সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
ইমরান হোসেন কামাল 


















