২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভ্যাট ফাঁকি, কাঁচামাল সংকট ও বেতন বকেয়া: বন্ধের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী

বরিশালের রূপাতলীতে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ভ্যাট ফাঁকি, কাঁচামালের সংকট, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া এবং অভ্যন্তরীণ অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বরিশাল নগরীর কাঠপট্টিতে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীর কারখানায় শত শত পাওনাদার ভিড় করছেন। পাওনাদারদের মধ্যে রয়েছেন সিমেন্টের জন্য অগ্রিম অর্থ পরিশোধকারী ডিলার, রিটেইলার, করপোরেট ক্রেতা, মালবাহী জাহাজ মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ী।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় কারখানায় কর্মবিরতি চলছে। পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া এ্যাংকর সিমেন্টের ব্যাগ ফ্যাক্টরী ইউনিট আগামী ২০ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্টক রেজিস্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার মজুদ দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে।

এদিকে, এক সময়ের জনপ্রিয় সিমেন্ট ব্র্যান্ড এ্যাংকর সিমেন্টে চলমান সংকটে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বিশ্বকাপ জিততে ভারতকে মাঠের বাউন্ডারি বড় করার পরামর্শ

ভ্যাট ফাঁকি, কাঁচামাল সংকট ও বেতন বকেয়া: বন্ধের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী

Update Time : ০৯:৪৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বরিশালের রূপাতলীতে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ভ্যাট ফাঁকি, কাঁচামালের সংকট, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া এবং অভ্যন্তরীণ অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বরিশাল নগরীর কাঠপট্টিতে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীর কারখানায় শত শত পাওনাদার ভিড় করছেন। পাওনাদারদের মধ্যে রয়েছেন সিমেন্টের জন্য অগ্রিম অর্থ পরিশোধকারী ডিলার, রিটেইলার, করপোরেট ক্রেতা, মালবাহী জাহাজ মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ী।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় কারখানায় কর্মবিরতি চলছে। পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া এ্যাংকর সিমেন্টের ব্যাগ ফ্যাক্টরী ইউনিট আগামী ২০ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্টক রেজিস্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার মজুদ দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে।

এদিকে, এক সময়ের জনপ্রিয় সিমেন্ট ব্র্যান্ড এ্যাংকর সিমেন্টে চলমান সংকটে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর।