সমাজ পরিবর্তনে তরুণরাই সবচেয়ে বড় শক্তি—এই সত্যকে আবারও প্রমাণ করলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল গ্রামের একদল সচেতন যুবক। ১৭ জুন, বুধবার গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্থাপিত স্পিড ব্রেকারগুলোকে দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে নিজেদের অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করে সতর্কতামূলক সাদা রঙের চিহ্ন অঙ্কন করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটিতে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে রাতে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় স্পিড ব্রেকার সহজে চোখে না পড়ায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হতো। এই সমস্যা উপলব্ধি করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার অপেক্ষা না করে যুবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় যুবক বাপ্পা খান ও রিশাদ খান বলেন, “সমাজের সচেতনতামূলক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে আমরা আত্মতৃপ্তি পাই। মানুষের উপকারে আসে এমন কোনো কাজ করতে পারলে সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণরা যদি নিজেদের অবস্থান থেকে সমাজের জন্য কাজ করে, তাহলে একটি সুন্দর, সচেতন ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
তারা আরও বলেন, “শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতেও এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
তরুণদের এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, বর্তমান সময়ে যখন অনেক তরুণ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, তখন ভোজমহল গ্রামের যুবকদের এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
এলাকাবাসী আশা করছেন, এই উদ্যোগ অন্য গ্রামের তরুণদেরও উদ্বুদ্ধ করবে এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করবে। ভোজমহল গ্রামের যুবকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণে তরুণদের অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এইচ এম রুহুল আমিন 















