১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদাসীনতার এক দশক শেষে ধস: মানুষসহ ভেঙে পড়ল গারুড়িয়ার ধনতলা খালের বাঁশের সাঁকো

দীর্ঘ এক দশকের অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার পর অবশেষে মানুষসহ ভেঙে পড়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার গাড়ুরিয়া ইউনিয়নের ধনতলা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে হেলেঞ্চা ও সাহেবপুর গ্রামের মধ্যবর্তী ধনতলা খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে খালের পানিতে পড়ে যায়। এরপর থেকে সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দুই গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেটিও নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়েই সেটি ব্যবহার করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে একজন সেনা সদস্য ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা সাঁকোটি পার হওয়ার সময় মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ করেই সেটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এতে তারা দুজনই খালের পানিতে পড়ে যান। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এক দশকের দুর্ভোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১০ বছর ধরে মূল সেতুটি অকেজো অবস্থায় খালের পানিতে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বারবার দাবি ও আবেদন জানানো হলেও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বেড়েছে।
এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও রোগীরা চলাচল করতেন। নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকি নিয়ে তাদের চলাচল করতে হয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বাড়ছে ভোগান্তি
সাঁকোটি ভেঙে পড়ার ফলে বর্তমানে হেলেঞ্চা ও সাহেবপুর গ্রামের মধ্যকার সরাসরি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই গ্রামের সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে গর্বের বাকেরগঞ্জ গারুড়িয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি কেএম সাইফুল ইসলাম শিহাব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু প্রতিদিনই আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছি। আর কতদিন এই অবহেলা সহ্য করতে হবে? কোনো প্রাণহানি ঘটার পর কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?”

দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি
এ বিষয়ে গর্বের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক মোঃ আফজাল হোসেন গাজী বলেন, আর কোনো কালক্ষেপণ নয়। ধনতলা খালের ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী, টেকসই ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে। একটি সেতুর অভাবে দুই গ্রামের হাজারো মানুষ বছরের পর বছর অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, যা এখনই নিরসন করা জরুরি।

স্থানীয়দের ভাষায়, “দশ বছরের অপেক্ষা যথেষ্ট হয়েছে। এবার চাই স্থায়ী সমাধান।”

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

উদাসীনতার এক দশক শেষে ধস: মানুষসহ ভেঙে পড়ল গারুড়িয়ার ধনতলা খালের বাঁশের সাঁকো

Update Time : ১১:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

দীর্ঘ এক দশকের অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার পর অবশেষে মানুষসহ ভেঙে পড়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার গাড়ুরিয়া ইউনিয়নের ধনতলা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে হেলেঞ্চা ও সাহেবপুর গ্রামের মধ্যবর্তী ধনতলা খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে খালের পানিতে পড়ে যায়। এরপর থেকে সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দুই গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেটিও নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়েই সেটি ব্যবহার করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে একজন সেনা সদস্য ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা সাঁকোটি পার হওয়ার সময় মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ করেই সেটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এতে তারা দুজনই খালের পানিতে পড়ে যান। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এক দশকের দুর্ভোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১০ বছর ধরে মূল সেতুটি অকেজো অবস্থায় খালের পানিতে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বারবার দাবি ও আবেদন জানানো হলেও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বেড়েছে।
এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও রোগীরা চলাচল করতেন। নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকি নিয়ে তাদের চলাচল করতে হয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বাড়ছে ভোগান্তি
সাঁকোটি ভেঙে পড়ার ফলে বর্তমানে হেলেঞ্চা ও সাহেবপুর গ্রামের মধ্যকার সরাসরি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই গ্রামের সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে গর্বের বাকেরগঞ্জ গারুড়িয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি কেএম সাইফুল ইসলাম শিহাব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু প্রতিদিনই আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছি। আর কতদিন এই অবহেলা সহ্য করতে হবে? কোনো প্রাণহানি ঘটার পর কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?”

দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি
এ বিষয়ে গর্বের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক মোঃ আফজাল হোসেন গাজী বলেন, আর কোনো কালক্ষেপণ নয়। ধনতলা খালের ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী, টেকসই ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে। একটি সেতুর অভাবে দুই গ্রামের হাজারো মানুষ বছরের পর বছর অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, যা এখনই নিরসন করা জরুরি।

স্থানীয়দের ভাষায়, “দশ বছরের অপেক্ষা যথেষ্ট হয়েছে। এবার চাই স্থায়ী সমাধান।”