১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জ পুলিশ হেফাজতে আটক নারীর আদালতে নেওয়ার পথে মৃত্যু

বাকেরগঞ্জে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক নাদিয়া বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রাম থেকে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়।

বুধবার সকালে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে নাদিয়ার পরিবারের দাবি, তাকে আটকের সময় তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, নাদিয়াকে আটকের সময় তার কাছে থাকা ইয়াবা তিনি গিলে ফেলেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন ওসি। তিনি আরও জানান, নাদিয়ার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। তার ছেলের বিরুদ্ধেও দুটি মাদক মামলা রয়েছে।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়েছিল। জেলহাজতে পাঠানোর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাদিয়ার সঙ্গে থাকা মাদক (ইয়াবা) সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মাদকসহ কেউ আটক হলে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা ছড়ায়। নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পুলিশ হেফাজতে তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

নাদিয়ার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

প্রেমের টানে বাংলাদেশে চীনা যুবক, বাকেরগঞ্জের তরুণীকে বিয়ে

বাকেরগঞ্জ পুলিশ হেফাজতে আটক নারীর আদালতে নেওয়ার পথে মৃত্যু

Update Time : ০৯:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাকেরগঞ্জে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক নাদিয়া বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রাম থেকে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়।

বুধবার সকালে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে নাদিয়ার পরিবারের দাবি, তাকে আটকের সময় তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, নাদিয়াকে আটকের সময় তার কাছে থাকা ইয়াবা তিনি গিলে ফেলেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন ওসি। তিনি আরও জানান, নাদিয়ার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। তার ছেলের বিরুদ্ধেও দুটি মাদক মামলা রয়েছে।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়েছিল। জেলহাজতে পাঠানোর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাদিয়ার সঙ্গে থাকা মাদক (ইয়াবা) সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মাদকসহ কেউ আটক হলে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা ছড়ায়। নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পুলিশ হেফাজতে তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

নাদিয়ার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।