বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একের পর এক চুরির ঘটনায় রাতের বেলায় বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সর্বশেষ উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের আফালকাঠী ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ আল মুস্তফার বাড়িতে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ আল মুস্তফা প্রায় তিন দিন আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের নেশাজাতীয় কোনো দ্রব্য প্রয়োগ করে অচেতন করার পর ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে নগদ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
চর সোনাকান্দায় একাধিক বাড়িতে চুরির অভিযোগ
এদিকে উপজেলার ৭ নম্বর কবাই ইউনিয়নের চর সোনাকান্দা গ্রামে সম্প্রতি একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. সুমন হাওলাদারের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একই গ্রামের আরও বেশ কয়েকটি বাড়িতে চুরির অভিযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় গ্রামজুড়ে চোরের উৎপাত নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জিরাইলেও চুরির প্রবণতা বেড়েছে বলে অভিযোগ
উপজেলার ৫ নম্বর দুর্গাপাশা ইউনিয়নের জিরাইল গ্রামেও সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামেও চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় রাতের বেলায় পর্যাপ্ত পুলিশি টহল না থাকায় চোরচক্র সুযোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে পুরুষশূন্য বাড়ি, প্রবাসী পরিবারের বসতবাড়ি এবং নির্জন এলাকার বাড়িগুলোতে চুরির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন তারা।
সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা কি?
ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—বাকেরগঞ্জে চোরচক্রের তৎপরতা কি সংঘবদ্ধভাবে বেড়েছে? বিভিন্ন এলাকার ঘটনাগুলোর সঙ্গে একই চক্র জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতের পুলিশি টহল জোরদার, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি এবং চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে নলুয়া, কবাই ও দুর্গাপাশার এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় কতগুলো অভিযোগ বা মামলা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চুরির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এইচ এম রুহুল আমিন 


















