বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে মাশরাফি বিন মর্তুজা শুধু একজন সফল অধিনায়ক নন, তিনি আবেগের নাম, ভালোবাসার নাম, সংগ্রামের প্রতীক। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকে চেনে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে—নিজ জন্মভূমি নড়াইলের নামকে বুকে ধারণ করে যিনি বছরের পর বছর দেশের জন্য লড়েছেন।
কিন্তু সেই মানুষটিকেই আজ বলতে হয়েছে— “আমি মারা গেলে আমার লাশ নড়াইলে এনো না।”
সম্প্রতি তার বাবার এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এমনই এক হৃদয়বিদারক তথ্য। কথাটি শুধু একটি আবেগঘন বাক্য নয়, বরং জন্মস্থানের মানুষের প্রতি গভীর অভিমান, কষ্ট আর বিশ্বাসভঙ্গের প্রতিচ্ছবি।
মানুষ নিজের জন্মভূমিকে ভালোবাসে নিঃস্বার্থভাবে। শৈশব, স্মৃতি, সম্পর্ক—সবকিছুর শিকড় থাকে সেই মাটিতে। কিন্তু সেই মাটির কিছু মানুষ যখন ঘৃণা, প্রতিহিংসা কিংবা উন্মাদনায় একজন মানুষকে আঘাত করে, তখন শুধু একটি বাড়ি পুড়ে না—পুড়ে যায় বিশ্বাস, ভেঙে যায় আত্মার ভেতরের শক্তিটাও।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নড়াইলে মাশরাফি বিন মর্তুজা, এই মানুষটিই ২০১৭ সালে Bangladesh Premier League 2017-এ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে পুরস্কারের গাড়ির পরিবর্তে নড়াইলবাসীর জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে বড় করে দেখেছিলেন তিনি।
এই ঘটনাই প্রমাণ করে, মাশরাফি বিন মর্তুজা শুধু ক্রিকেটার ছিলেন না; তিনি ছিলেন নিজের মাটির প্রতি দায়বদ্ধ একজন মানুষ।
কিন্তু সময় কখনো কখনো সবচেয়ে প্রিয় সম্পর্কগুলোতেও দূরত্ব তৈরি করে। রাজনৈতিক বিভাজন, সামাজিক বিদ্বেষ আর অন্ধ উন্মাদনা আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে জন্ম নিচ্ছে এমন সব অভিমান, যা একজন মানুষকে নিজের জন্মভূমি নিয়েও কঠিন কথা বলতে বাধ্য করে।
একজন মানুষের সব অর্জনের পেছনে থাকে তার শেকড়ের টান। আর সেই শেকড়েই যখন আঘাত লাগে, তখন তার কষ্টটাও হয়ে ওঠে গভীর।
হয়তো এ কারণেই আজ সময়কে বড় অদ্ভুত মনে হয়— যে মানুষটি নড়াইলকে নিজের পরিচয়ের অংশ বানিয়েছিলেন, সেই মানুষটিই নাকি মৃত্যুর পরও সেখানে ফিরতে চান না।
স্টাফ রিপোর্টার 























