২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটের আড়ালে ক্ষমতার দখল : নীরব থাকব, নাকি মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াব?

দুবাইয়ে আইসিসির সদর দপ্তরের ৭৬ জন কর্মচারীর মধ্যে ৫৮ জনই ভারতীয়। চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী—এই দুই শীর্ষ পদসহ বাণিজ্য, মিডিয়া, ইভেন্ট, সম্প্রচার, কৌশল ও বিপণনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর নেতৃত্বেও ভারতীয়দের একচ্ছত্র আধিপত্য।

যখন কোনো তথাকথিত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মী এক দেশের নাগরিক, তখন তার সিদ্ধান্তও সেই দেশের স্বার্থেই ঘুরপাক খাবে—এটাই বাস্তবতা। আইসিসির ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলো সেই সত্যটাই বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে-

ক্রিকেট কি সত্যিই নিরপেক্ষ?
নাকি ক্ষমতাধর বোর্ডের ইচ্ছাই আজ নিয়ম, ন্যায় আর নীতির সংজ্ঞা?

এরই মধ্যে ভারতে “বাংলাদেশি সন্দেহে” পিটিয়ে হত্যার একাধিক লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে- যেখানে নিহতদের পরে ভারতীয় নাগরিক বলেই প্রমাণ মিলেছে। এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং একটি বিপজ্জনক মানসিকতার প্রতিফলন। চোখ বুজে এগুলো উপেক্ষা করা মানে অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া।

একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললে বা না খেললে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে না।

কিন্তু মর্যাদা বিসর্জন দিলে, আত্মসম্মান বিকিয়ে দিলে- তার ক্ষত বহন করতে হয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

আজ প্রশ্ন একটাই-
আমরা কি নীরব দর্শক হয়ে অন্যায়ের নাটক দেখব?
নাকি মাথা উঁচু করে বলব—না, অন্যায়ের সাথে আপস নয়?

ইতিহাস সাক্ষী-
যারা মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন থেকেছে, তারাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

২৭২ রানেই অলআউট বাংলাদেশ, ওয়ারিক্যানের ৫ উইকেট

ক্রিকেটের আড়ালে ক্ষমতার দখল : নীরব থাকব, নাকি মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াব?

Update Time : ১২:৫১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দুবাইয়ে আইসিসির সদর দপ্তরের ৭৬ জন কর্মচারীর মধ্যে ৫৮ জনই ভারতীয়। চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী—এই দুই শীর্ষ পদসহ বাণিজ্য, মিডিয়া, ইভেন্ট, সম্প্রচার, কৌশল ও বিপণনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর নেতৃত্বেও ভারতীয়দের একচ্ছত্র আধিপত্য।

যখন কোনো তথাকথিত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মী এক দেশের নাগরিক, তখন তার সিদ্ধান্তও সেই দেশের স্বার্থেই ঘুরপাক খাবে—এটাই বাস্তবতা। আইসিসির ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলো সেই সত্যটাই বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে-

ক্রিকেট কি সত্যিই নিরপেক্ষ?
নাকি ক্ষমতাধর বোর্ডের ইচ্ছাই আজ নিয়ম, ন্যায় আর নীতির সংজ্ঞা?

এরই মধ্যে ভারতে “বাংলাদেশি সন্দেহে” পিটিয়ে হত্যার একাধিক লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে- যেখানে নিহতদের পরে ভারতীয় নাগরিক বলেই প্রমাণ মিলেছে। এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং একটি বিপজ্জনক মানসিকতার প্রতিফলন। চোখ বুজে এগুলো উপেক্ষা করা মানে অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া।

একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললে বা না খেললে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে না।

কিন্তু মর্যাদা বিসর্জন দিলে, আত্মসম্মান বিকিয়ে দিলে- তার ক্ষত বহন করতে হয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

আজ প্রশ্ন একটাই-
আমরা কি নীরব দর্শক হয়ে অন্যায়ের নাটক দেখব?
নাকি মাথা উঁচু করে বলব—না, অন্যায়ের সাথে আপস নয়?

ইতিহাস সাক্ষী-
যারা মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন থেকেছে, তারাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে।