বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ঔষধ চুরির গুরুতর অভিযোগে ফার্মাসিস্ট মামুন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বেতন-ভাতা স্থগিত রেখে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে সরকারি ঔষধ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ চলে আসছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, “ঔষধ চুরির ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চলে আসছে। বিষয়গুলো নিয়ে বারবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা নানা উপায়ে বিষয়গুলো ম্যানেজ করে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. সুমি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি ঔষধ চুরির একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের আংশিক সত্যতা মিলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ফার্মাসিস্টকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বেতন-ভাতা স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর। কোনোভাবেই এ ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে রোগীরা অভিযোগ করেছেন, অনেক সময় প্রয়োজনীয় ঔষধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সাম্প্রতিক ঘটনার পর এসব অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোঃ রাকিব খান 






















