১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুধলে গ্রামে শোকের ছায়া: স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

ঢাকার খিলগাঁওয়ে পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে মুক্তা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সোহেল শিকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এ ঘটনার খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের পশ্চিম সরসী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটনাটি ঘটে বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহত মুক্তা আক্তার দুধল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরসী গ্রামের মৃত নিজাম হাওলাদারের মেজো মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কাজলাকাঠি গ্রামের আলতু শিকদারের ছেলে সোহেল শিকদারের সঙ্গে মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পরকীয়ার সন্দেহসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সোহেল তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার রাতে সোহেল মুক্তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় মারধরের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও তারা জানান। একপর্যায়ে মুক্তার মৃত্যু হলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পরে নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ঢাকার খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে আটক করে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর পশ্চিম সরসী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মুক্তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ঘটনার বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার সরসী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) আব্দুস সালাম বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। নিহতের স্বামীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য এবং সার্বিক তদন্তের স্বার্থে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”

দুধল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, মুক্তা তার চোখের সামনে বড় হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ছিলেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, গৃহবধূ মুক্তাকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

প্রেমের টানে বাংলাদেশে চীনা যুবক, বাকেরগঞ্জের তরুণীকে বিয়ে

দুধলে গ্রামে শোকের ছায়া: স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

Update Time : ০১:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার খিলগাঁওয়ে পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে মুক্তা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সোহেল শিকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এ ঘটনার খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের পশ্চিম সরসী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটনাটি ঘটে বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহত মুক্তা আক্তার দুধল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরসী গ্রামের মৃত নিজাম হাওলাদারের মেজো মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কাজলাকাঠি গ্রামের আলতু শিকদারের ছেলে সোহেল শিকদারের সঙ্গে মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পরকীয়ার সন্দেহসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সোহেল তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার রাতে সোহেল মুক্তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় মারধরের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও তারা জানান। একপর্যায়ে মুক্তার মৃত্যু হলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পরে নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ঢাকার খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে আটক করে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর পশ্চিম সরসী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মুক্তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ঘটনার বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার সরসী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) আব্দুস সালাম বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। নিহতের স্বামীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য এবং সার্বিক তদন্তের স্বার্থে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”

দুধল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, মুক্তা তার চোখের সামনে বড় হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ছিলেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, গৃহবধূ মুক্তাকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।