বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কামারখালী কৃষ্ণ সুন্দর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি গৌরবময় ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। শতবর্ষে পদার্পণ করা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে বাকেরগঞ্জের শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।
১৯২৬ সালে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলাধীন দাড়িয়াল ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র কামারখালী এলাকায় মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এই অঞ্চলে আর কোনো মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও গুণীজনেরা শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কোষাবর নিবাসী জমিদাতা বাবু উমেশচন্দ্র গুহর পুত্র বাবু কৃষ্ণ সুন্দর গুহর নামে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব বাবু বীরেন্দ্রনাথ দাস (বীরেন দাস)।
প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম ছিল “কামারখালী কে.এস.ইউ ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয়”, যা তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ছিল। বিদ্যালয়টি সরাসরি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অধীনে পরিচালিত হতো—যা সে সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাবু মনোরঞ্জন দত্ত, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। প্রথম শিক্ষক সি.কে. চক্রবর্তীসহ একদল দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলীর মাধ্যমে বিদ্যালয়টি শিক্ষাক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান গড়ে তোলে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রশস্ত ভূমির উপর সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। প্রতিটি শ্রেণীতে দুইটি করে শাখা রয়েছে এবং এখানে প্রায় ৬০০-এর অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। ১৬ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক নিরলসভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যেই ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে।
এই বিদ্যালয় থেকে গত এক শতাব্দীতে তৈরি হয়েছেন অসংখ্য দেশগড়ার কারিগর—সমাজসেবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশার গুণীজন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাকেরগঞ্জের মানুষের কাছে গর্বের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।
শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—অতীতের মতো আগামী দিনগুলোতেও কামারখালী কৃষ্ণ সুন্দর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে এই অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে।
মোঃ রিয়াজ হাওলাদার 



















