০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরামকে খালাস দিলেন আপিল বিভাগ

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনকে খালাস প্রদান করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন। রায়ের ফলে আগের দেওয়া সর্বোচ্চ সাজার আদেশটি বাতিল হয়ে গেল।

এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে খান আকরামসহ মোট সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন, মো. মকবুল মোল্লা, খান আশরাফ আলী, রুস্তম আলী মোল্লা, শেখ ইদ্রিস আলী ও শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল। তাদের মধ্যে খান আকরামসহ প্রথম তিনজন কারাবন্দি থাকলেও বাকি চারজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। ২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরু করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, এই আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত সাতটি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের ২৬ মে বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং ১০ জন মুক্তিকামী মানুষকে গুলি করে হত্যা।

এ ছাড়াও জুলাই মাসে কচুয়ায় চারজনকে অপহরণের পর হত্যার পর লাশ খালে ফেলে দেওয়া এবং নভেম্বর মাসে পৃথক দুটি অভিযানে দুই মুক্তিযোদ্ধা ও চারজন সাধারণ মানুষকে হত্যার অভিযোগ ছিল অন্যতম। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল তাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের মধ্যে ছিল উদানখালী গ্রাম থেকে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও হত্যার পর তার মেয়েকে রাজাকার ক্যাম্পে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন ও ধর্ষণ করা।

এ ছাড়া গজালিয়া বাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে এক মাস ধরে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও নথিবদ্ধ করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন, যার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ আইনি পর্যালোচনার পর আজ খান আকরামকে খালাস প্রদানের আদেশ দিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

রাজশাহীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাকেরগঞ্জের মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরামকে খালাস দিলেন আপিল বিভাগ

Update Time : ১০:৫৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনকে খালাস প্রদান করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন। রায়ের ফলে আগের দেওয়া সর্বোচ্চ সাজার আদেশটি বাতিল হয়ে গেল।

এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে খান আকরামসহ মোট সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন, মো. মকবুল মোল্লা, খান আশরাফ আলী, রুস্তম আলী মোল্লা, শেখ ইদ্রিস আলী ও শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল। তাদের মধ্যে খান আকরামসহ প্রথম তিনজন কারাবন্দি থাকলেও বাকি চারজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। ২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরু করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, এই আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত সাতটি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের ২৬ মে বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং ১০ জন মুক্তিকামী মানুষকে গুলি করে হত্যা।

এ ছাড়াও জুলাই মাসে কচুয়ায় চারজনকে অপহরণের পর হত্যার পর লাশ খালে ফেলে দেওয়া এবং নভেম্বর মাসে পৃথক দুটি অভিযানে দুই মুক্তিযোদ্ধা ও চারজন সাধারণ মানুষকে হত্যার অভিযোগ ছিল অন্যতম। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল তাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের মধ্যে ছিল উদানখালী গ্রাম থেকে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও হত্যার পর তার মেয়েকে রাজাকার ক্যাম্পে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন ও ধর্ষণ করা।

এ ছাড়া গজালিয়া বাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে এক মাস ধরে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও নথিবদ্ধ করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন, যার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ আইনি পর্যালোচনার পর আজ খান আকরামকে খালাস প্রদানের আদেশ দিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।