০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ই-সিগারেট, ভেপ নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ, জনসমাগমস্থলে ধূমপানে জরিমানা বাড়ল

ই-সিগারেট, ভেপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের তামাকপণ্য নিষিদ্ধ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ কার্যকর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে জনসমাগমস্থলে ধূমপান করার অপরাধে জরিমানা আরও বাড়ানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এ অধ্যাদেশ কার্যকর করা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এটা প্রস্তাব করেছিল।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, এ আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন-সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন করা। এ ছাড়া আইনটির আওতায় ই-সিগারেট, ভেপ, হিটেড টোব্যাকোসহ উদীয়মান তামাক পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টার পোস্টে জানানো হয়, তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার এসব পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

এ ছাড়া ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্যের’ পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনসহ ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সব জনসমাগমস্থলে আর গণপরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ, বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ, সিএসআর কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম/লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান/কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পণ্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো, কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও এতে যুক্ত করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সংগঠনকে ত্বরান্বিত করতে ৮ নং নলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ই-সিগারেট, ভেপ নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ, জনসমাগমস্থলে ধূমপানে জরিমানা বাড়ল

Update Time : ০৪:২৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

ই-সিগারেট, ভেপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের তামাকপণ্য নিষিদ্ধ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ কার্যকর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে জনসমাগমস্থলে ধূমপান করার অপরাধে জরিমানা আরও বাড়ানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এ অধ্যাদেশ কার্যকর করা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এটা প্রস্তাব করেছিল।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, এ আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন-সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন করা। এ ছাড়া আইনটির আওতায় ই-সিগারেট, ভেপ, হিটেড টোব্যাকোসহ উদীয়মান তামাক পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টার পোস্টে জানানো হয়, তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার এসব পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

এ ছাড়া ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্যের’ পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনসহ ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সব জনসমাগমস্থলে আর গণপরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ, বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ, সিএসআর কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম/লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান/কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পণ্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো, কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও এতে যুক্ত করা হয়েছে।