৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাওয়া ঘাটে ‘প্রজেক্ট হিলশা’—কোটি টাকার বিনিয়োগ, নেগেটিভ রিভিউয়ে ধাক্কা

পদ্মা পাড়ের মাওয়া ঘাটে গড়ে ওঠা ‘প্রজেক্ট হিলশা’ একসময় ছিল ভোজনরসিকদের অন্যতম আকর্ষণ। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর ইলিশ খাওয়ার আগ্রহে প্রতিদিনই মানুষের ঢল নামে এই এলাকায়। সেই সুযোগে যাত্রা শুরু করা রেস্টুরেন্টটি উদ্বোধনের পরপরই পায় ব্যাপক সাড়া—ভিড়, কৌতূহল আর প্রচারণায় জায়গা করে নেয় আলোচনার কেন্দ্রে।

তবে শুরু থেকেই কিছু ব্যবস্থাপনা ত্রুটি রেস্টুরেন্টটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ, দামের তুলনায় খাবার ও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ, এবং ক্রেতার অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে না পারা—এসব কারণে ধীরে ধীরে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় একদল ফুড রিভিউয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দলবদ্ধভাবে রেস্টুরেন্টটির বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরে তৈরি হয় নেগেটিভ কনটেন্ট। কেউ গেট দিয়ে ঢুকতে না পারা, কেউ সিট না পাওয়া, আবার কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর খাবারের মান নিয়ে হতাশা—এসব অভিজ্ঞতা রসিয়ে উপস্থাপন করা হয় ভিডিওতে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ রেস্টুরেন্টের ভেতরে ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করলে, অনেকেই পার্সেল নিয়ে বাইরে বসে রিভিউ চালিয়ে যান। এতে তাদের ব্যক্তিগত ভিউ বাড়লেও ব্যবসার ওপর পড়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব।

ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের শুরুর চ্যালেঞ্জগুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা গেলে তা উন্নতির সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু একপাক্ষিক নেতিবাচক প্রচারণা বড় বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কোটি টাকা বিনিয়োগ করা উদ্যোক্তারা যেখানে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়েন, সেখানে কনটেন্ট নির্মাতারা সাময়িক জনপ্রিয়তা নিয়েই থেমে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বশীলতাও জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনা ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা উচিত।

আমাদের ছোট একটি মন্তব্য বা কাজ কখনো অন্যের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার জায়গা থেকে কথা বলা ও কাজ করাই সময়ের দাবি।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জের গারুড়িয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবে বসতবাড়ি বিধ্বস্ত- খোলা আকাশের নিচে পরিবার

মাওয়া ঘাটে ‘প্রজেক্ট হিলশা’—কোটি টাকার বিনিয়োগ, নেগেটিভ রিভিউয়ে ধাক্কা

Update Time : ০৮:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পদ্মা পাড়ের মাওয়া ঘাটে গড়ে ওঠা ‘প্রজেক্ট হিলশা’ একসময় ছিল ভোজনরসিকদের অন্যতম আকর্ষণ। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর ইলিশ খাওয়ার আগ্রহে প্রতিদিনই মানুষের ঢল নামে এই এলাকায়। সেই সুযোগে যাত্রা শুরু করা রেস্টুরেন্টটি উদ্বোধনের পরপরই পায় ব্যাপক সাড়া—ভিড়, কৌতূহল আর প্রচারণায় জায়গা করে নেয় আলোচনার কেন্দ্রে।

তবে শুরু থেকেই কিছু ব্যবস্থাপনা ত্রুটি রেস্টুরেন্টটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ, দামের তুলনায় খাবার ও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ, এবং ক্রেতার অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে না পারা—এসব কারণে ধীরে ধীরে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় একদল ফুড রিভিউয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দলবদ্ধভাবে রেস্টুরেন্টটির বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরে তৈরি হয় নেগেটিভ কনটেন্ট। কেউ গেট দিয়ে ঢুকতে না পারা, কেউ সিট না পাওয়া, আবার কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর খাবারের মান নিয়ে হতাশা—এসব অভিজ্ঞতা রসিয়ে উপস্থাপন করা হয় ভিডিওতে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ রেস্টুরেন্টের ভেতরে ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করলে, অনেকেই পার্সেল নিয়ে বাইরে বসে রিভিউ চালিয়ে যান। এতে তাদের ব্যক্তিগত ভিউ বাড়লেও ব্যবসার ওপর পড়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব।

ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের শুরুর চ্যালেঞ্জগুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা গেলে তা উন্নতির সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু একপাক্ষিক নেতিবাচক প্রচারণা বড় বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কোটি টাকা বিনিয়োগ করা উদ্যোক্তারা যেখানে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়েন, সেখানে কনটেন্ট নির্মাতারা সাময়িক জনপ্রিয়তা নিয়েই থেমে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বশীলতাও জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনা ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা উচিত।

আমাদের ছোট একটি মন্তব্য বা কাজ কখনো অন্যের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার জায়গা থেকে কথা বলা ও কাজ করাই সময়ের দাবি।