০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাধ্যমিক শিক্ষায় নতুন যুগের সূচনা: আধুনিকায়নে আসছে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্প

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাঙ্গনে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আরও ৩০০টি বিদ্যমান শ্রেণিকক্ষ সংস্কার করা হবে। এছাড়া ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও, ৩০টি বিশেষ মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের করতে চীন সরকার আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ সরবরাহ করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লাসরুমে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকবে। ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করা যাবে এবং ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও তা দেখতে পারবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই ক্লাস নোট, কোর্সওয়্যার ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে। এতে শিক্ষার ডিজিটাল বৈষম্য কমবে এবং পাঠদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন জানান, ডাটা সেন্টারের জন্য জায়গা নির্ধারণে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। জায়গা চূড়ান্ত হলে চীন সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মাউশি প্রাঙ্গণে স্থাপিত আধুনিক নেটওয়ার্কিং ও ক্লাউডভিত্তিক ডাটা সেন্টার থেকে সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে।

এদিকে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচিতে অনাপত্তি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বগুড়া ও চাঁদপুরের দুটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির সংযোজন মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

একসঙ্গে র‍্যালি করলেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা, বিতরণ হলো আজওয়া খেজুর-সেভেন আপ

মাধ্যমিক শিক্ষায় নতুন যুগের সূচনা: আধুনিকায়নে আসছে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্প

Update Time : ০৩:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাঙ্গনে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আরও ৩০০টি বিদ্যমান শ্রেণিকক্ষ সংস্কার করা হবে। এছাড়া ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও, ৩০টি বিশেষ মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের করতে চীন সরকার আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ সরবরাহ করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লাসরুমে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকবে। ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করা যাবে এবং ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও তা দেখতে পারবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই ক্লাস নোট, কোর্সওয়্যার ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে। এতে শিক্ষার ডিজিটাল বৈষম্য কমবে এবং পাঠদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন জানান, ডাটা সেন্টারের জন্য জায়গা নির্ধারণে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। জায়গা চূড়ান্ত হলে চীন সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মাউশি প্রাঙ্গণে স্থাপিত আধুনিক নেটওয়ার্কিং ও ক্লাউডভিত্তিক ডাটা সেন্টার থেকে সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে।

এদিকে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচিতে অনাপত্তি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বগুড়া ও চাঁদপুরের দুটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির সংযোজন মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।