১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তা

ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগ খেলে চট্টগ্রাম ফিরেই ডিবি পরিচয়ে নির্মম মারধর ও চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

আহত এই ক্রিকেটার চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ২৬ বছর বয়সী এই স্পিনার।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাঈম হাসান বলেন, ‘ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলাম। লালখানবাজার ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ আমার সিএনজি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র নেয়। আমি নিজে থেকেই পুলিশকে ব্যাগ চেক করতে বলি। কিন্তু আচমকা একজন আমার গলা চিপে ধরে গাড়িতে উঠতে বলে। আমি প্রতিবাদ করে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে আসতেই তারা আমাকে পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।’

নাঈম আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য ও একজন পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি ছিলেন, যিনি নিজেকে ডিবির সোর্স বা কর্মকর্তা পরিচয় দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষ নাঈমের ক্রিকেটার পরিচয় নিশ্চিত করার পরও মারধর থামেনি। উল্টো ‘তুই আসামি, কথা বলবি না’ বলে তাকে ধমকাতে থাকে। পরবর্তীতে তাকে খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় নেওয়ার পর মোবাইল হাতে পেয়ে নাঈম দ্রুত বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তামিম ইকবাল তাৎক্ষণিক খুলশি থানার ওসি এবং নাঈমের বাবার সঙ্গে কথা বলে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাঈম হাসান অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব। কারণ এর সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তি জড়িত। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে আমরা কাজ করছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, কোনো একটি চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযানে গিয়েছিল। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়মে হয়েছে কি না এবং মারধরের ঘটনাটি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের রোগীদের জন্য ৬ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তা

Update Time : ০৯:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগ খেলে চট্টগ্রাম ফিরেই ডিবি পরিচয়ে নির্মম মারধর ও চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

আহত এই ক্রিকেটার চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ২৬ বছর বয়সী এই স্পিনার।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাঈম হাসান বলেন, ‘ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলাম। লালখানবাজার ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ আমার সিএনজি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র নেয়। আমি নিজে থেকেই পুলিশকে ব্যাগ চেক করতে বলি। কিন্তু আচমকা একজন আমার গলা চিপে ধরে গাড়িতে উঠতে বলে। আমি প্রতিবাদ করে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে আসতেই তারা আমাকে পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।’

নাঈম আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য ও একজন পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি ছিলেন, যিনি নিজেকে ডিবির সোর্স বা কর্মকর্তা পরিচয় দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষ নাঈমের ক্রিকেটার পরিচয় নিশ্চিত করার পরও মারধর থামেনি। উল্টো ‘তুই আসামি, কথা বলবি না’ বলে তাকে ধমকাতে থাকে। পরবর্তীতে তাকে খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় নেওয়ার পর মোবাইল হাতে পেয়ে নাঈম দ্রুত বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তামিম ইকবাল তাৎক্ষণিক খুলশি থানার ওসি এবং নাঈমের বাবার সঙ্গে কথা বলে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাঈম হাসান অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব। কারণ এর সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তি জড়িত। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে আমরা কাজ করছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, কোনো একটি চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযানে গিয়েছিল। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়মে হয়েছে কি না এবং মারধরের ঘটনাটি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।