০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলে জায়গা না পেয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলেন, অর্শদীপের ভিউ এখন লাখ লাখ

বল হাতে অর্শদীপ সিং কতটা কী করতে পারেন, সেটা তো প্রায় সব ক্রিকেট দর্শকেরই জানা। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটের (১০৭) মালিক তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের অন্যতম সেরা এই বোলার এখন অন্য একটি পরিচয়েও নিজেকে চেনাচ্ছেন—কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

২৬ বছর বয়সী অর্শদীপ সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে বেশ সরব। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ফেসবুকে অনুসারীর সংখ্যা এখন ১৪ লাখ, আর ইনস্টাগ্রামে ৪৭ লাখ।

মজার বিষয় হচ্ছে, একবার দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশা থেকেই তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুরু করেছিলেন, এখন কনটেন্টও বানান, খেলেনও। গতকাল রাতেই যেমন ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টি–টোয়েন্টিতে খেলেছেন।

অর্শদীপ তাঁর চ্যানেলে ও পেজে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করেন। দলের অনুশীলন, নিজের ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন, শপিং, ঘোরাঘুরি—প্রায় সব ধরনের ভিডিওই তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়।

ভারতের সাদা বল ক্রিকেটের নিয়মিত সদস্য হয়েও কীভাবে ইউটিউবিংয়ে জড়িয়েছেন, এবার সেই গল্প শুনিয়েছেন জিও স্টারে। অর্শদীপ জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের প্রথম ম্যাচের একাদশে জায়গা না পাওয়াটা তাঁর জন্য শাপেবর হয়েছে।

টুর্নামেন্টে ভারতের সব ম্যাচ ছিল দুবাইয়ে, যেখানে রোহিত শর্মার দল স্পিনারদেরই বেশি খেলিয়েছে। অর্শদীপের মুখেই শুনুন তাঁর ইউটিউবার হয়ে ওঠার গল্পটা—‘প্রথম ম্যাচে খেলব না জানার পর রুমে বসে খুব বিরক্ত লাগছিল। তখনই ইউটিউব চ্যানেল খুলে ফেললাম। পরে দেখলাম, এটা তো সত্যিকারের আশীর্বাদ হয়ে গেল।’

অর্শদীপ এখন যে চ্যানেলটা চালান, সেটি ২০১৫ সালে খোলা হলেও সবচেয়ে পুরোনো ভিডিওটি এ বছরের ফেব্রুয়ারির। এখন পর্যন্ত ৮৪টি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে এখানে। ভিডিও তৈরি নিয়ে অর্শদীপ বলেন, ‘আমি সব সময় ইতিবাচক কিছু খুঁজে দেখি। এই পর্যায়ে খেলতে পারাটাই বড় ব্যাপার, এ জন্যই কৃতজ্ঞ থাকতে হয়। সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, আর সুযোগ পেলে সেটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে হয়।’

সম্প্রতি বিরাট কোহলিকে নিয়ে অর্শদীপের বানানো একটি মজার রিল ইনস্টাগ্রামে ১৩ কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে। শুধু ‘লাইক’ই পড়েছে ৮৭ লাখের বেশি। একই রিল ইউটিউবে দেখা হয়েছে ১৩ লাখের বেশি বার।

ভিডিওটি ছিল ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ। আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বিরাট কোহলি এদিন ৪৫ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থেকে দল জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচের পর কোহলিকে ভিডিওতে রেখে অর্শদীপ মজা করে বলেন, ‘পাজি, রানটা কম ছিল, না হলে আজ সেঞ্চুরি পাকা ছিল।’

কোহলি খুনসুটি করে জবাব দেন, ‘টস জিতেছি বলে বাঁচলি, না হলে শিশিরের কারণে তোরও (বোলিংয়ে) সেঞ্চুরি হয়ে যেত।’

অবসর না নেওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকেই এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়েছেন। ঋষভ পন্ত, লোকেশ রাহুল, যশপ্রীত বুমরা, প্যাট কামিন্স, অজিঙ্কা রাহানে ইউটিউবে প্রায়ই কনটেন্ট আপলোড করেন।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

রাজশাহীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাকেরগঞ্জের মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

দলে জায়গা না পেয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলেন, অর্শদীপের ভিউ এখন লাখ লাখ

Update Time : ১১:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

বল হাতে অর্শদীপ সিং কতটা কী করতে পারেন, সেটা তো প্রায় সব ক্রিকেট দর্শকেরই জানা। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটের (১০৭) মালিক তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের অন্যতম সেরা এই বোলার এখন অন্য একটি পরিচয়েও নিজেকে চেনাচ্ছেন—কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

২৬ বছর বয়সী অর্শদীপ সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে বেশ সরব। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ফেসবুকে অনুসারীর সংখ্যা এখন ১৪ লাখ, আর ইনস্টাগ্রামে ৪৭ লাখ।

মজার বিষয় হচ্ছে, একবার দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশা থেকেই তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুরু করেছিলেন, এখন কনটেন্টও বানান, খেলেনও। গতকাল রাতেই যেমন ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টি–টোয়েন্টিতে খেলেছেন।

অর্শদীপ তাঁর চ্যানেলে ও পেজে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করেন। দলের অনুশীলন, নিজের ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন, শপিং, ঘোরাঘুরি—প্রায় সব ধরনের ভিডিওই তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়।

ভারতের সাদা বল ক্রিকেটের নিয়মিত সদস্য হয়েও কীভাবে ইউটিউবিংয়ে জড়িয়েছেন, এবার সেই গল্প শুনিয়েছেন জিও স্টারে। অর্শদীপ জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের প্রথম ম্যাচের একাদশে জায়গা না পাওয়াটা তাঁর জন্য শাপেবর হয়েছে।

টুর্নামেন্টে ভারতের সব ম্যাচ ছিল দুবাইয়ে, যেখানে রোহিত শর্মার দল স্পিনারদেরই বেশি খেলিয়েছে। অর্শদীপের মুখেই শুনুন তাঁর ইউটিউবার হয়ে ওঠার গল্পটা—‘প্রথম ম্যাচে খেলব না জানার পর রুমে বসে খুব বিরক্ত লাগছিল। তখনই ইউটিউব চ্যানেল খুলে ফেললাম। পরে দেখলাম, এটা তো সত্যিকারের আশীর্বাদ হয়ে গেল।’

অর্শদীপ এখন যে চ্যানেলটা চালান, সেটি ২০১৫ সালে খোলা হলেও সবচেয়ে পুরোনো ভিডিওটি এ বছরের ফেব্রুয়ারির। এখন পর্যন্ত ৮৪টি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে এখানে। ভিডিও তৈরি নিয়ে অর্শদীপ বলেন, ‘আমি সব সময় ইতিবাচক কিছু খুঁজে দেখি। এই পর্যায়ে খেলতে পারাটাই বড় ব্যাপার, এ জন্যই কৃতজ্ঞ থাকতে হয়। সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, আর সুযোগ পেলে সেটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে হয়।’

সম্প্রতি বিরাট কোহলিকে নিয়ে অর্শদীপের বানানো একটি মজার রিল ইনস্টাগ্রামে ১৩ কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে। শুধু ‘লাইক’ই পড়েছে ৮৭ লাখের বেশি। একই রিল ইউটিউবে দেখা হয়েছে ১৩ লাখের বেশি বার।

ভিডিওটি ছিল ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ। আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বিরাট কোহলি এদিন ৪৫ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থেকে দল জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচের পর কোহলিকে ভিডিওতে রেখে অর্শদীপ মজা করে বলেন, ‘পাজি, রানটা কম ছিল, না হলে আজ সেঞ্চুরি পাকা ছিল।’

কোহলি খুনসুটি করে জবাব দেন, ‘টস জিতেছি বলে বাঁচলি, না হলে শিশিরের কারণে তোরও (বোলিংয়ে) সেঞ্চুরি হয়ে যেত।’

অবসর না নেওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকেই এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়েছেন। ঋষভ পন্ত, লোকেশ রাহুল, যশপ্রীত বুমরা, প্যাট কামিন্স, অজিঙ্কা রাহানে ইউটিউবে প্রায়ই কনটেন্ট আপলোড করেন।