বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের মৌকরন মৌজার অন্তর্ভুক্ত নয় নামক এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে মুসলমানদের ভূমি দখল করে ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে সনাতন ধর্মের জয়দেব দাস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা দলিল ও রেকর্ডভুক্ত মালিক হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী প্রভাব বিস্তার করে জয়দেব দাস তাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগ করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম খান ফোনে জানান, মেম্বার জামাল চৌধুরী, প্যানেল চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক টোকন মৃধা, ওবায়দুল মেম্বার ও জাকির মেম্বারের সঙ্গে কথা বলে তিনি জয়দেব দাসের সাথে আলোচনা করেছেন। আলোচনার প্রেক্ষিতে জয়দেব দাস নিজে উপস্থিত থেকে সকল কাগজপত্র দেখে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে জামাল মেম্বার, জাকির মেম্বার, প্যানেল চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক টোকন মৃধা এবং ওবায়দুল মেম্বার দলিলের ভিত্তিতে জমির সীমানা ও পিলার নির্ধারণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা ভূমি অফিসার আব্দুল রহিম গাজী। তিনি সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তবে অভিযোগকারীরা জানান, জমির দখলদার হিসেবে পরিচিত জয়দেব দাস একাধিকবার তারিখ দেওয়া সত্ত্বেও উপস্থিত হননি এবং আজ পর্যন্ত তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো বৈধ দলিল দেখাতে পারেননি। বরং মামলার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জমি জোরপূর্বক দখলে রেখে ভোগ করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চলতি বছর তরমুজ চাষের জন্য সম্পূর্ণ জমির টাকা একাই নিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন জয়দেব দাস। এতে এলাকাবাসী চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম গাজী বলেন, “দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আমার রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি জয়দেব দাস দখল করে রেখেছেন। অথচ দলিল ও পর্চা আমার কাছে রয়েছে। বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিই। তার উদ্যোগেই ৭ ডিসেম্বর জমির ডিমারকেশন করা হয়। এর আগেও ৪-৫ বার তারিখ দেওয়া হলেও জয়দেব দাস আসেননি। আমরা এই ভূমিদস্যুর হাত থেকে পরিত্রাণ চাই।”
সাবেক পুলিশ সদস্য আজিজ মিরা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে তার পেছনে ঘুরছি। বারবার তারিখ দিয়েও তিনি আসেননি। আমরা রেকর্ডিং সম্পত্তির প্রকৃত মালিক।”
আরেক ভুক্তভোগী মামুন চৌধুরী বলেন, “গত দুই-তিন বছর ধরে চেষ্টা করছি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাকেরগঞ্জে বসার কথা থাকলেও তিনি দু’দিনেই অনুপস্থিত ছিলেন।”
চান মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী জানান, “আমি গরিব মানুষ। দলিল সূত্রেই এই জমির মালিক।”
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক টোকন মৃধা বলেন, “আমি নিজে মৌকরন মৌজায় পিলার ডিমারকেশনের সময় উপস্থিত ছিলাম। সকল দলিল যাচাই করে সরকারি আমিন যেখানে পিলার বসাতে বলেছেন, সেখানেই তা স্থাপন করা হয়েছে। গাছ কাটার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের ফাঁসানোর জন্য নিজেরাই গাছ কেটে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। যদি জয়দেব দাসের কোনো বৈধ জমি থাকে, তিনি দলিল নিয়ে আমাদের কাছে আসুন- আমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে তার জমিও বণ্টন করে দেব।”
ভুক্তভোগীরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। তারা এই দীর্ঘদিনের ভূমি জটিলতার সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান দাবি করেছেন।
ডেস্ক রিপোর্টঃ 



















